কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীতে অস্ত্র, মাদক ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চক্রটির তৎপরতায় সন্ধ্যার পর বালুখালী খেলার মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ- বালুখালীর আলোচিত ডাকাত আজিজুল হক ওরফে জুলু ডাকাতের পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নূরুল আমিন, নূরুল সওদাগর ও তাদের সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই রয়েছে কমপক্ষে ৪/৫ টি করে মামলা। বেশির ভাগই মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগ এসেছে এসব মামলায়।
চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে জুলু ডাকাত ও তার দুই সহযোগীকে আটক করেছিলো। অভিযানে বিদেশি পিস্তল, একে-২২ রাইফেল, দেশীয় পিস্তল, একনলা বন্দুক, গুলি, ম্যাগাজিন, ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ সময় সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত রাসেল প্রকাশ শেখ রাসেল নামে একজন পালিয়ে যান। রাসেল সম্পর্কে জুলু ডাকাতের মেয়ের জামাই হন।
এর আগে নূরুল আমিন মাদকসহ আটক হয়ে কারাভোগ করেছিলেন। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
এদিকে গত ৩ মার্চ রোহিঙ্গা শিবির-৯-এর সি/১৮ ব্লকের কাছে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ পাঁচ রোহিঙ্গাকে আটক করেছিল র্যাব-১৫। ওই ঘটনায় নূরুল আমিনের বড় ভাই বাবুলের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে।
২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর নূরুল আমিনের সঙ্গে রোহিঙ্গা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরোধের জেরে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এতে জুবায়ের নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে মামলা না করার জন্য ভয়ভীতি দেখানো এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
অন্যদিকে, নূরুল সওদাগরের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নাগরিকদের শরণার্থী শিবিরের বাইরে অবৈধভাবে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বালুখালী সেনা ক্যাম্পের কাছাকাছি তার বাড়ির আশপাশে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে রাখা হয়েছিল। এর আগে যৌথ বাহিনীর উচ্ছেদ অভিযানে তাকে অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ- উচ্ছেদ অভিযানের পরও সেখানে পুনরায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মাদক পাচার, অস্ত্র ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সেনা ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি- এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, অপহরণ এবং অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

