নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রবল স্রোতের কারণে শ্যাফ্রুবেশি ও তিমুরে এলাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ করতে না পারায় উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য, বেশ কয়েকটি গ্রাম ও অবকাঠামো প্রকল্পের এলাকা পানিতে ভেসে গেছে।
রাসুয়া জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর হলেও এখনই হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সীমান্তের ওপারে তিব্বতের গিরং কাউন্টিতেও ভূমিধস ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিধসে গিরং বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শিগাতসে অঞ্চলের সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেখানে বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার নির্দেশ দিয়েছেন।
নেপালের জলবায়ু ন্যায়বিচারকর্মী প্রয়াশ অধিকারী জানিয়েছেন, ভয়াবহ স্রোতে পুরো গ্রাম পর্যন্ত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার খবর রয়েছে। শত শত মানুষ নিখোঁজ এবং ভবন, স্কুল, সেতু ও মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা দল পাঠিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হিমবাহ থেকে বরফ ও পাথরের ধস নেমে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর আকস্মিকভাবে বিপুল পানির স্রোত নেমে আসায় এই বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে।

