টেকনাফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী সীমান্ত এলাকায় আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক পাচারকারী চক্র। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা বক্তার আহমেদের দুই ছেলে সেলিম ও শাকিল যৌথভাবে একটি মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাদের বিরুদ্ধে নাফ নদী সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান এনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে হোয়াইক্যংয়ের কাটাখালীর পুয়াজ্যাপাড়া এলাকা থেকে এই দুই ভাই প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই করে আত্মগোপনে চলে যায়। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, সেলিম ও শাকিল মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় চিংড়ির ঘের থাকার দাবি করে নিয়মিত নাফ নদীতে যাতায়াত করেন। এই সুযোগে তারা মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান আনার পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে বাংলাদেশি নিত্যপণ্য পাচার করে থাকেন। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, চাল, ডালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তাদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা সীমান্ত এলাকাকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে মাদক কারবার পরিচালনা করে আসছেন। মিয়ানমারভিত্তিক পাচারকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে রাতের আঁধারে নাফ নদী অতিক্রম করে ইয়াবার চালান দেশে এনে পরবর্তীতে নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তা খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে দুই ভাই নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে থাকেন। এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে তারা অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ মাদকের ভয়াবহ প্রভাবের মুখে পড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেলিম ও শাকিলের সক্রিয়তায় কাটাখালী সীমান্ত পয়েন্টটি বর্তমানে মাদক পাচারের একটি নিরাপদ ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হোয়াইক্যং ১ নম্বর ওয়ার্ডের সচেতন নাগরিক সমাজ মাদকমুক্ত এলাকা গড়ে তুলতে অভিযুক্ত সেলিম ও শাকিলের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে যৌথ বাহিনীর জরুরি অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

