কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানবপাচারকারী চক্র। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনের দুর্বল অবস্থানকে পুঁজি করে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য ও মূলহোতারা এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শহরের ২নং ওয়ার্ডের নুনিয়ারছড়া এলাকার চিহ্নিত মানবপাচারকারী শামশু মাঝির পুত্র ছৈয়দ করিম আবারও তার দলবল নিয়ে সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। ছৈয়দ করিমের সাথে রয়েছে- তার ভাড়াঘরে দীর্ঘ ৪ বছর ধরে আশ্রিত নুর আহম্মদ এবং নুর আহম্মদের শ্যালক রায়হান
অনুসন্ধানে জানা যায়- সরকার দলীয় স্থানীয় কয়েকজন নেতা এই মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে তৎপর হলে ছৈয়দ করিম মাসখানেক আগে তার ভাড়াঘর থেকে নুর আহম্মদকে সরিয়ে সিরাজের পুত্র হিমু নামে জনৈক ব্যাক্তির ভাড়াঘরে সরিয়ে নেন। প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে হিমু নিশ্চিত করেছে- নুর আহম্মদ চলতি জুলাই মাস থেকেই তার ভাড়াঘরে উঠেছে। তবে এর আগে কোথায় কার কাছে ছিলো জানতে চাওয়া হলে কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি। এছাড়াও নুর আহম্মদ একজন অটোরিক্সা চালক হিসেবেই তাকে ভাড়াঘরে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।
মানবপাচারে অভিযুক্ত ছৈয়দ করিম ও হিমু উভয়ে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ওই সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব মানবপাচার কান্ড চালিয়ে যেতেন বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। তবে হিমুর অতিসম্প্রতি মানবপাচারে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি।
জানা যায়- ছৈয়দ করিম এখন পর্যন্ত একাধিক মানবপাচার মামলায় আসামী হয়েছেন। মামলার পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছেন মানবপাচারও। সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম থেকে ট্রলার ভাড়া এনে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়ার নতুন ফিশারী পাড়া/চিতাপাড়ার নির্দিষ্ট ঘাঁটে নোঙ্গর করেন। অবৈধ পথে অভিবাসী হতে আগ্রহী কিংবা দালাল কর্তৃক জোরপূর্বক পাচারের শিকার লোকজনকে প্রথমে ছৈয়দ করিমের ভাড়াঘরে এনে জমা রাখা হয়। এরপরে দিন তারিখ ঠিক করে মাঝরাত আড়াইটা বা তিনটার দিকে ওই ট্রলারে মানুষ ভর্তি করে থাইলেন্ড মালয়শিয়ার উদ্দেশ্যে উক্ত ঘাট থেকে ছেড়ে যায়। ট্রলারে সাথে থাকেন সহযোগী নুর আহম্মদ। যথাস্থানে মানুষ পৌঁছে দিয়ে ১৫/২০ দিন পর এলাকায় ফেরত আসেন নুর।
অভিযুক্ত ছৈয়দ করিমের দাবী- তাকে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মানবপাচার মামলায় ফাঁসানো হয়েছিলো। তিনি এসবের সাথে জড়িত নন। নতুন করে মানবপাচারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন- এগুলো সব মিথ্যাচার করছে প্রতিপক্ষের লোকজন।

