যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিলিকন ভ্যালিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ডেটা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীদের বিরোধিতার মুখে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। খবর রয়টার্সের।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলিকন ভ্যালির সবচেয়ে বড় শহর সান হোসেতে একের পর এক ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী মহলের মতে, এসব স্থাপনা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও কর রাজস্ব বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ডেটা সেন্টারগুলো বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার করবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত ডিজেলচালিত ব্যাকআপ জেনারেটর বায়ুদূষণ বাড়াতে পারে। তাই প্রকল্প অনুমোদনের আগে বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আরও কঠোর পর্যালোচনা ও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সান হোসেতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো কয়েকটি প্রস্তাবিত ডেটা সেন্টার প্রকল্পের বিরুদ্ধে সংগঠিত হচ্ছে। শহর কর্তৃপক্ষ অবশ্য এআই অবকাঠামোর একটি কেন্দ্র হিসেবে সান হোসেকে গড়ে তুলতে এসব প্রকল্প আকর্ষণের চেষ্টা করছে।
শহর কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি নতুন ডেটা সেন্টার থেকে বছরে প্রায় ৩০ লাখ থেকে ৬০ লাখ ডলার পর্যন্ত কর রাজস্ব আসতে পারে। এই অর্থ পুলিশ, অগ্নিনিরাপত্তা, গ্রন্থাগার, সড়ক ও পার্কসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবায় ব্যয় করা সম্ভব হবে।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছে, এআইনির্ভর এই প্রবৃদ্ধির সুফল সবার মধ্যে সমানভাবে পৌঁছাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
তৃণমূল সংগঠন ‘আই লাভ সান হোসে’ জোটের নেতা এলিনা ইয়িন বলেন, ডেটা সেন্টার নির্মাণে স্থানীয় সম্পদ ব্যবহারের যৌক্তিকতা এবং এর মাধ্যমে সম্প্রদায় কীভাবে উপকৃত হবে, তা কোম্পানিগুলোকে স্পষ্ট করতে হবে।
সান হোসের মেয়র ম্যাট মাহান বলেন, ডেটা সেন্টার নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়। তবে এসব প্রকল্প যেন দায়িত্বশীলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ খরচ, পানির ব্যবহার ও শহরের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্নকে তিনি যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে বিতর্কটি ক্যালিফোর্নিয়ার রাজধানী স্যাক্রামেন্টোতেও পৌঁছেছে। রাজ্যের সিনেট ও অ্যাসেম্বলিতে ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে স্বচ্ছতা এবং গ্রিড-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের অংশ পরিশোধের বিষয়ে কয়েকটি বিল অনুমোদন পেয়েছে।
স্টেট সিনেটর স্টিভ পাডিলা বলেন, বিশ্বের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অনেকগুলোর আবাস ক্যালিফোর্নিয়ায় হওয়ায় এ বিষয়ে রাজ্যটির নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে।
অন্যদিকে গুগল, মেটা, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির সদস্য থাকা ‘ডেটা সেন্টার কোয়ালিশন’ জানিয়েছে, তারা দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করে। তবে সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত বিধিনিষেধগুলো অন্যান্য বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের তুলনায় ডেটা সেন্টারকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে। এতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও কর রাজস্ব অন্য রাজ্যে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংগঠনটি সতর্ক করেছে।
এদিকে বায়ুর মান নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত ডিজেলচালিত ব্যাকআপ জেনারেটরের ওপর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়ে পরিবেশবাদী একটি জোট বে এরিয়া এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট ডিস্ট্রিক্টের কাছে আবেদন করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের কাছে অনুমোদিত বিলগুলোতে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করা অথবা ভেটো দেওয়ার সময় রয়েছে মাসের শেষ পর্যন্ত। গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, বিলগুলো বর্তমানে বিবেচনাধীন থাকায় এ বিষয়ে তারা মন্তব্য করবে না।

