মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ফার্স্ট ক্লাশের বগি। একজন হকার উঠতে গিয়েছিলেন। দরজায় ছিল তালা। এরমধ্যেই সবটুকু গতিতে ট্রেন ছুটতে শুরু করে। মাথার ঝুড়িতে পানির বোতল, জুসের বোতলের মত ভারী জিনিস। ২৫/৩০ কেজি ওজন। ভেতর থেকে দরজা খুলার চেষ্টা করছেন কয়েকজন। ছেলেটা প্রাণ ভয়ে কাতর হয়ে চিৎকার করতে করতে দরজার হাতলে এক হাত দিয়ে ধরে আছে। ভেতর থেকে কেউ একজন বলছে, 'আবু' ভারী লাগলে ঝুড়ি ফেলে দাও। নেত্রকোনার মানুষ দরদ করে ছোটদের আবু বলে।
ভিতরে স্যুটেড বুটেড টিটি আছেন। সে দেখেও চলে গেল। ছেলেটা শেষপর্যন্ত ছিটকে পরে যায়। গতকালের ঘটনা এটি।
এর মাত্র একদিন আগে একই রোডে ফুটফুটে এক কলেজ ছাত্র ট্রেনে ভিড় থাকায় দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকার সময়ে বিদ্যুতের পোলে লেগে পড়ে মারা যায়। এটা নেত্রকোনা শহরের একটু আগে, রাজুর বাজারে। আর এর একদিন আগে গত পরশু মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ধাক্কায় নেত্রকোনা শহরের কয়েক কিলো পরের চল্লিশা বাজারের কাছে দুজন রাইস মিলের শ্রমিক মারা যায়। ওদের বয়স ছিল ২৩/২৪ বছর। দুজন বন্ধু।
মৃত্যুর এই মিছিলও মানুষকে মানবিক করে না। মানুষের কোনও বিকার নেই। একটা প্রাণের জন্য দরদ নেই। যে ১৬/১৭ বছরের ছেলেটাকে মাথার ঝুড়ি ফেলতে বলা হচ্ছে, সে এই ঝুড়ি ফেলে না- কারণ ঝুড়ির পানি আর জুসই তার পরিবারের ভাতের নিশ্চয়তা।
ফার্স্ট কিলাশের দরোজায় খুন হয়ে গেছে আমার এই দিন মুজুর ভাই। মায়ের আবু। রাষ্ট্রের সে কেউ না।
এটি স্যোসাল মিডিয়ার ফেসবুকে নিজ একাউন্ট থেকে লিখেছেন আরজু আহম্মেদ।



