কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনী পথসভায় দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক দুই ইউপি চেয়ারম্যান অংশ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে চকরিয়া উপজেলা কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ধানের শীষের নির্বাচনী পথসভায় যোগদানের মুহুর্তে সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদকে ফুলের তোড়া দিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন স্বাগত জানানোর একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
জানা গেছে, মক্কী ইকবাল হোসেন চকরিয়া উপজেলা কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের পরপর দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তিনি সাবেক এমপি ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের মতো তাঁকেও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিনকে শুভেচ্ছা জানানো ফিরোজ আহমদ চৌধুরী কৈয়ারবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি। তিনি ওই ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান।
এদিকে বিএনপির ধানের শীষের নির্বাচনী পথসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রকাশ্য অংশগ্রহণের ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদকে সমর্থন জানিয়ে ধানের শীষের প্রচারণায় পথসভায় কৈয়ারবিল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ চৌধুরী ও আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মক্কী মো. ইকবাল হোসেন অংশ নেন। এসময় সালাউদ্দিন আহমদকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেয়া বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে দেখামাত্রই গ্রেপ্তার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেখানে কীভাবে তারা প্রকাশ্যে ধানের শীষের নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া উপজেলা কৈয়ারবিল ইউনিয়নে ধানের শীষের নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেয়া ইউপি চেয়ারম্যান মক্কী মো. ইকবাল হোসেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদসহ নেতা-কর্মীদের হত্যাচেষ্টার মামলার আসামী। অবশ্য তিনি এ মামলায় কারাভোগ করে ইতোমধ্যে জামিনে এসেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামীলীগ নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কৃষ্ণ করলে লীলা খেলা, আমরা করলে বিলা। সারাদিন শুধু ‘ডেভিল’ ধরে বেড়ানো হচ্ছে। কিছু আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে ভোট চাইলে সমস্যা নেই- তাদের দাসত্ব মেনে নিলেই সব ঠিক।”
এবিষয়ে জানতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি এনামুল হক সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলীকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে চকরিয়ায় রাজনীতিতে চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে-নির্বাচনী রাজনীতিতে আদর্শ, পরিচয় এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা কোথায় দাঁড়াচ্ছে তা নিয়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা আরও উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন দলের নেতাদের এমন প্রকাশ্য অংশগ্রহণ রাজনীতির স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই পরিস্থিতি স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় ভিন্ন দলের নেতাদের অংশগ্রহণ যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তি বৃদ্ধি করতে পারে।

